খানিক চুপ করে থাকার পর রথিন দা বলে, প্রথম প্রথম কেঁদে ফেলেছিলাম। বিক্রি হয়নি, বাড়িতে এসে চা ফেলে দিতে হয়েছে। সে সময় অনেকে সাহস দিয়েছে হাটের কয়েকজন বলেছেন, লেগে থাকো ঠিক হবে। কয়েক দিন আগেই আমার আর বৌ এর শরীর খারাপ করেছিলো। প্রায় এক হাজার টাকা ওষুধ কিনতে চলে গেছে। শুধু এটুকু চাই ভগবান যেন সুস্থ রাখেন। ইদানিং হাঁটুর একটা সমস্যা হচ্ছে। আসলে হাঁটু মুড়ে বসে চা দিতে হয়।চোদ্দ বার উপর নীচ করতে হয় হাটের একতলা থেকে তিন তলা। অল্প বয়সে খেলতে গিয়ে হাঁটতে চোটও পেয়েছিলাম।
হালটা সর্বত্র এক না। সরকারের গাফিলতি ধরিয়ে দেবে, এখানে সংগঠন কই?
আদিবাসী লেবার ছিল — এখন ফ্যামিলি প্ল্যানিং হয়ে গেছে, আদিবাসীদেরও একটা কি দুটোর বেশি বাচ্চা নাই। তাদের ছেলেরা এখন বড়ো হয়েছে, তারা আর লেবার দিতে চায় না। সোনার কাজে চলে যাচ্ছে, আমাদের এখানে সব কেরল-টেরল কাজে চলে যায়। জমির কাজ হয়তো কিছু করে, রাজমিস্ত্রি বা জোগাড়ের কাজে ওখানে বেতনটা বেশি। কেরলে শুনেছি, আমাদের বাড়িতে একজন মাছ দিতে আসত, আমার বড়দার খুব প্রিয় ছিল, মাছ বাড়িতে এসে কেটে দিয়ে যেত। হঠাৎ আমার সঙ্গে দেখা হল, মাস ছয়েক দেখা পাইনি, বলল, আমি কেরল গিয়েছিলাম লেবারের কাজে। ওই কাজে পাঁচশো টাকা মজুরি। একস্ট্রা কাজ করলে তার ওপর আবার একটা টাকা। বলল, ওখানে সরু চালের ভাত খাই, একটু আলু ভাতে দিলাম, হয়ে গেল।
চাষীর দাম কে চুকাবে? মাঠের নাড়া বাঁধা থাকে ব্যাবসাদারের হাতে।
এখন তো অটোমেটিক মিল, আপনি ধানটা ফেলে দিলেন, লরি বা ট্রাক থেকে মুটেরা গোডাউনে তুলে নিল, অটোমেটিক মিলে গেল, ঝাড়াই-বাছাই হল, আধঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধ শুকোনো সব হয় চাল বেরিয়ে এল। জামালপুরে আমার পাশেই দু-তিনটে মিল আছে। সবথেকে বেশি মিল আছে সগরাই মোড় বলে, বর্ধমান থেকে আরামবাগ যে রুটটা, খণ্ডকোষ থানা, প্রচুর মিল আছে। মিলে ধানটা ভাঙিয়ে চালটা বিক্রি করে দেয়। চালে কত লাভ হচ্ছে সেটা দেখবে না। মিলে প্রথমে তুষটা ছাড়িয়ে নেয়। তারপরে পালিশ করে। পালিশের আগে চালের গায়ে যে একটা পাতলা আঁশ থাকে, সেইটাকে আলাদা করে বার করে নেয়। সেইটা ভালো দামে বিক্রি হয়। ওইটা থেকে একটা তেল বার হয়, রাইসব্র্যান অয়েল বলে যেটাকে। তেলটা বার করার পর উদ্বৃত্ত ভুষি যেটা রয়ে গেল, সেইটা আবার বিস্কুট কোম্পানিগুলো কিনে নেয়। ফাইবারটা নিয়ে ময়দা এটা ওটা দিয়ে বিস্কুটটা তৈরি হয়। চালে লাভটা আর হয় না।
আবার প্রাইভেট টিউশন তাদের মুখমন্ডল দেখিয়েছে। শুধু স্কুলটাই বন্ধ।
প্রথম প্রথম বেশ মজা লাগছিল। শুধু খাচ্ছিলাম আর ঘুমোচ্ছিলাম। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছিল টি.ভি.। এখন লকডাউন নেই। আবার প্রাইভেট টিউশন তাদের মুখমন্ডল দেখিয়েছে। শুধু স্কুলটাই বন্ধ। আগের মত আঁকা, পড়াশুনা তরতর করে চলছে। তবে পাঁচটায় খাওয়ার বদলে দুটোয় খাওয়া। সাড়ে ন’টায় স্নান করার বদলে সাড়ে বারোটায় স্নান করা।
‘হাল-হেতেল নিজের না হলে চাষ কেমন হয়’ – বোঝালেন আতমা প্রকল্পে ফুল চাষ করা ধুবুলিয়ার চুক্তিচাষি
আমরা ফুল প্রথমে বেথুয়াডহরীর কৃষক মান্ডিতেই দিতাম। কিন্তু ওখানে ২% টাকা কেটে নেয়। ওটা নাকি ওদের নিয়ম। লাভ হয়না দেখে আমরা কিছুদিন পর হাওড়ার ফুল মার্কেটে যোগাযোগ করে ওখানে বিক্রি শুরু করি। বাসের মাথায় ফুল লোড করে পাঠিয়ে দিই। কিছুদিন পরপর গিয়ে টাকা নিয়ে আসি। কিন্তু আট-ন’মাস ফুল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ। একে গাড়ি চলছিলনা। তার উপর মার্কেট বন্ধ। এই দিন তিনেক হল দু লপ্তে মাল পাঠিয়েছি। কিন্তু দাম নেই। অন্যান্য বছর এই সময় ফুলের দাম তিন চার টাকা করে থাকে।এখন দেড় টাকা/ দু’টাকা। কী করে ব্যাঙ্কের কিস্তি শোধ করব বলুন। ফুল তো আপনাকে তুলতে হবেই, বিক্রি হোক আর না হোক। ফুল তুললে তবেই নতুন স্টিক আসে।
- « Previous Page
- 1
- …
- 9
- 10
- 11
- 12
- 13
- …
- 283
- Next Page »





সাম্প্রতিক মন্তব্য